মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৮:২৮
জান্নাত ও জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার কারণ কী?

ইসলামী পরিভাষায় ‘খুলুদ’ (خلود) অর্থ চিরস্থায়িত্ব বা অনন্তকাল স্থায়ী হওয়া। পবিত্র কুরআনে জান্নাত ও জাহান্নামে মানুষের চিরস্থায়ী অবস্থান বোঝাতে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। পরকালীন জীবনে মানুষের স্থায়িত্বের প্রকৃতি এবং জান্নাত ও জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার কারণ ইসলামী জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: শিয়া ইসলামের প্রাচীন হাদিসগ্রন্থ আল-মাহাসিন-এ এ বিষয়ে ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর একটি তাৎপর্যপূর্ণ রেওয়ায়েত রয়েছে। গ্রন্থটির রচয়িতা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ বারকি। রেওয়ায়েতটিতে জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের চিরস্থায়ী অবস্থানের কারণ হিসেবে তাদের নিয়ত ও অন্তরের স্থায়ী প্রবণতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন,

إِنَّمَا خُلِّدَ أَهْلُ النَّارِ فِی النَّارِ لِأَنَّ نِیَّاتِهِمْ کَانَتْ فِی الدُّنْیَا أَنْ لَوْ خُلِّدُوا فِیهَا أَنْ یَعْصُوا اللَّهَ أَبَداً، وَإِنَّمَا خُلِّدَ أَهْلُ الْجَنَّةِ فِی الْجَنَّةِ لِأَنَّ نِیَّاتِهِمْ کَانَتْ فِی الدُّنْیَا أَنْ لَوْ بَقُوا فِیهَا أَنْ یُطِیعُوا اللَّهَ أَبَداً، فَبِالنِّیَّاتِ خُلِّدَ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ، ثُمَّ تَلَا قَوْلَهُ تَعَالَى: قُلْ کُلٌّ یَعْمَلُ عَلَىٰ شَاکِلَتِهِ، قَالَ: عَلَىٰ نِیَّتِهِ.

“জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে এ কারণে যে, দুনিয়াতে তাদের নিয়ত ছিল—তারা যদি সেখানে চিরকাল বেঁচে থাকে, তাহলে চিরকাল আল্লাহর অবাধ্যতা করবে। আর জান্নাতবাসীরা জান্নাতে চিরস্থায়ী হবে এ কারণে যে, দুনিয়াতে তাদের নিয়ত ছিল—তারা যদি সেখানে চিরকাল বেঁচে থাকে, তাহলে চিরকাল আল্লাহর আনুগত্য করবে। সুতরাং, উভয় দলের চিরস্থায়িত্ব তাদের নিয়তের কারণেই।”

এরপর ইমাম সাদিক (আ.) আল্লাহ তাআলার এই বাণী তিলাওয়াত করেন: “বলুন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ পদ্ধতি ও প্রবণতা অনুযায়ী আমল করে।”
[সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮৪]

এরপর তিনি বলেন, “অর্থাৎ, নিজ নিজ নিয়ত অনুযায়ী।”

[আল-মাহাসিন, পৃষ্ঠা ৩৩১, হাদিস ৯৪]

বাণীটির শিক্ষা
এই হাদিসে মানুষের নিয়তের গভীর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। এখানে শুধু কোনো একটি কাজের সাময়িক ইচ্ছাকে বোঝানো হয়নি; বরং মানুষের অন্তরে গড়ে ওঠা স্থায়ী প্রবণতা ও দৃঢ় সংকল্পকে বোঝানো হয়েছে। যে ব্যক্তি সুযোগ পেলে সবসময় আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হতে চায়, তার অন্তরের এই প্রবণতা তার প্রকৃত চরিত্রকে প্রকাশ করে। বিপরীতে, যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যকে নিজের স্থায়ী পথ হিসেবে গ্রহণ করে, তার নিয়তও তার ঈমানি চরিত্রের পরিচয় বহন করে।

অর্থাৎ, মানুষের বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি তার অন্তরের নিয়ত, বিশ্বাস ও স্থায়ী প্রবণতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই ইমাম সাদিক (আ.) উভয় দলের পরিণতিকে তাদের নিয়তের সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha